অসুরদলনী দুর্গার উদ্ভব সূত্রের অনুসন্ধান

বঙীয় সভ্যতার বয়স কম নয়; বর্দ্ধমান জলায় অজয়-কুনুর-কোপাই নদীর উপত্যকায় পাণ্ডুরাজার ঢিবি ও সংলগ্ন স্থানে ১৯৬২ সালে পশ্চিমবঙ প্রত্নতাত্তিমক সর্বেক্ষণের উদ্যোগে খননের ফলে সাডে় তিন হাজার বছরের পুরানো এক সভ্যতার সন্ধান পাওয়া গিয়াছে, যাহা অবিচ্ছিন্ন ধারায় প্রস্তর যুগ হইতে লেৌহাস্ত্রর যুগ পর্যন্ত প্রসারিত। খনন এলাকার মধ্যে একটি মাকড়া পাথরে নির্মিত চত্তমর পওয়া গিয়াছে (সম্ভবত নেৌঘাটা, দ: দ:)। ইট-পাথর নির্মিত চতুষ্কাণ-আয়তাকার বাড়ির ভিতগুলি প্রশস্ত, অল্প সংখ্যক গোলাকার (সম্ভবত মরাই, দ: দ:)। কোনো কোনো বাড়ীর দেয়াল নলখাগড়ায় মাটি লেপা ( ছিটাবেড়া, সম্ভবত পালিত পশুর খোঁয়াড়, দ; দ:)। প্রধান খাদ্য চাউল, মাছ, নীলগাই-হরিণ (শিকার লব্ধ দ; দ;), শূকরের মাংস (সম্ভবত গৃহ পালিত দ; দ;)। এই স্থানের অধিবাসীরা নৌকায় দূর দেশে ও বিদেশে বাণিজ্য করিত, রপ্তানি দ্রব্য: মসলা, সূতার বস্ত্র, গজদন্ত, স্বর্ণ, রেৌপ্য, তাম্র, হীরক, চিনি। উপত্যকার নানা স্থানে প্রাপ্ত মৃৎপাত্রে কতকগুলি চিহ্ন পরিলক্ষিত হয়, অনুমান এগুলি প্রাচীন যুগে পচলিত অক্ষর (এবং সংখ্যা, বাণিজ্যকারী সভ্যতায় পণ্য পরিচায়ক লিপি ছাড়াও পণ্যের পরিমান বাচক সংখ্যা, যেমন সাত বস্তা চিনি, আট ঝুড়ি মশলা, ইত্যাদি থাকা আবশ্যিক দ; দ;)। পোড়া মাটির তৈরি নরনারীর মূর্তি পাওয়া গিয়াছে (খেলার পুতুল বা অর্চিত দেব-দেবীর ছলন, দুটোই হতে পারে, তবে সিংহবাহিনী দেবীর নয়, এ অঞ্চল সিংহের স্বাভাবিক বাসস্থান নয়, তারা মরুপ্রায় তৃণাঞ্চলের বাসীন্দ, যথা রাজস্থানের ‘গির‘, দ: দ:)। একটি স্টিটাইট (শ্ষ্ঙ্সষ্ত্ষ্ঙ্) পাথরের গোলাকার সীল, পাওয়া গিয়াছে, অনুমান, ক্রীট দ্বীপের চিত্রাক্ষর সম্বলিত, প্রায় সাডে় তিন হাজার বছর পূর্বে নির্মিত, অনুমান সে সময় ক্রীট দ্বীপের সহিত বাংলা দেশের বাণিজ্য সম্পর্ক ছিল; রমেশচন্দ্র মজুমদার, বাংলা দেশের ইতিহাস, প্রাচীন যুগ। সবই অনুমানের পর্যায়ে থেকে গেছে, পণ্ডিতেরা এসব খতিয়ে দেখেননি, খনন-অনুসন্ধানের কাজও বন্ধ, খুবই আাপশোষের বিষয়, অবিলম্বে এই কাজ পুনরায় শুরু করা কর্তব্য।

অসুরদলনী দুর্গার উদ্ভব সূত্রের অনুসন্ধান Read More »