বঙীয় সভ্যতার বয়স কম নয়; বর্দ্ধমান জলায় অজয়-কুনুর-কোপাই নদীর উপত্যকায় পাণ্ডুরাজার ঢিবি ও সংলগ্ন স্থানে ১৯৬২ সালে পশ্চিমবঙ প্রত্নতাত্তিমক সর্বেক্ষণের উদ্যোগে খননের ফলে সাডে় তিন হাজার বছরের পুরানো এক সভ্যতার সন্ধান পাওয়া গিয়াছে, যাহা অবিচ্ছিন্ন ধারায় প্রস্তর যুগ হইতে লেৌহাস্ত্রর যুগ পর্যন্ত প্রসারিত। খনন এলাকার মধ্যে একটি মাকড়া পাথরে নির্মিত চত্তমর পওয়া গিয়াছে (সম্ভবত নেৌঘাটা, দ: দ:)। ইট-পাথর নির্মিত চতুষ্কাণ-আয়তাকার বাড়ির ভিতগুলি প্রশস্ত, অল্প সংখ্যক গোলাকার (সম্ভবত মরাই, দ: দ:)। কোনো কোনো বাড়ীর দেয়াল নলখাগড়ায় মাটি লেপা ( ছিটাবেড়া, সম্ভবত পালিত পশুর খোঁয়াড়, দ; দ:)। প্রধান খাদ্য চাউল, মাছ, নীলগাই-হরিণ (শিকার লব্ধ দ; দ;), শূকরের মাংস (সম্ভবত গৃহ পালিত দ; দ;)। এই স্থানের অধিবাসীরা নৌকায় দূর দেশে ও বিদেশে বাণিজ্য করিত, রপ্তানি দ্রব্য: মসলা, সূতার বস্ত্র, গজদন্ত, স্বর্ণ, রেৌপ্য, তাম্র, হীরক, চিনি। উপত্যকার নানা স্থানে প্রাপ্ত মৃৎপাত্রে কতকগুলি চিহ্ন পরিলক্ষিত হয়, অনুমান এগুলি প্রাচীন যুগে পচলিত অক্ষর (এবং সংখ্যা, বাণিজ্যকারী সভ্যতায় পণ্য পরিচায়ক লিপি ছাড়াও পণ্যের পরিমান বাচক সংখ্যা, যেমন সাত বস্তা চিনি, আট ঝুড়ি মশলা, ইত্যাদি থাকা আবশ্যিক দ; দ;)। পোড়া মাটির তৈরি নরনারীর মূর্তি পাওয়া গিয়াছে (খেলার পুতুল বা অর্চিত দেব-দেবীর ছলন, দুটোই হতে পারে, তবে সিংহবাহিনী দেবীর নয়, এ অঞ্চল সিংহের স্বাভাবিক বাসস্থান নয়, তারা মরুপ্রায় তৃণাঞ্চলের বাসীন্দ, যথা রাজস্থানের ‘গির‘, দ: দ:)। একটি স্টিটাইট (শ্ষ্ঙ্সষ্ত্ষ্ঙ্) পাথরের গোলাকার সীল, পাওয়া গিয়াছে, অনুমান, ক্রীট দ্বীপের চিত্রাক্ষর সম্বলিত, প্রায় সাডে় তিন হাজার বছর পূর্বে নির্মিত, অনুমান সে সময় ক্রীট দ্বীপের সহিত বাংলা দেশের বাণিজ্য সম্পর্ক ছিল; রমেশচন্দ্র মজুমদার, বাংলা দেশের ইতিহাস, প্রাচীন যুগ। সবই অনুমানের পর্যায়ে থেকে গেছে, পণ্ডিতেরা এসব খতিয়ে দেখেননি, খনন-অনুসন্ধানের কাজও বন্ধ, খুবই আাপশোষের বিষয়, অবিলম্বে এই কাজ পুনরায় শুরু করা কর্তব্য।
প্রসঙত উল্লেখ করা যেতে পারে, সাডে় তিন হাজার বছর পূর্বে ক্রীটদ্বীপের মিনোয়ান সভ্যতা ছিল ইন্দো-ইউরোপীীয় জাতির একটি শাখা, নর্ডিক ্আর্য থেকে স্বতন্ত্র, আলপাইন আর্যদের নিকট জ্ঞাতি, অধু্যসিত. বাণিজ্য নির্ভর, এদের চিত্রলিপির এখনো পাঠোদ্ধার হয়নি; পৃথিবীর ইতিহাস, দেবীপ্রসাদ চেµাপাধ্যায়, রমাকৃষ্ণ মৈত্র। অর্থাৎ স্থলপথে নর্ডিক-আর্য আগমনের পূর্বেই জলপথে বাংলায় অন্য একটি ইন্দো-ইউরোপীয় মানবগোষ্ঠীর আগমন ঘটেছিল।
এই ঝলকটুকু ছাড়াও পিছু হেঁটে গেলে দেখি সিংভূম, বাঁকুড়া, নদীয়া, মেদিনীপুর, হুগলী, বর্দ্ধমান, দার্জিলিং জেলার বিভিন্ন স্থানে নবপোলিয় বা নব্য প্রস্তর যুগের হাতিয়ার পাওয়া গেছে, যাদের বয়স পাঁচ থেকে দশ হাজার বছর। স্বতন্ত্র স্থানে মেদিনীপুর জেলার তামাজুড়িতে এবং বরাকর উপত্যকায় পাওয়া
২
গেছে তাম্র কুঠার; বাঙালার ইতিহাস, ১ম খণ্ড,রাখালদাস বন্দে্যাপাধ্যয়। আরো পিছনে তাকালে দেখি মেদিনীপুর জেলার রামগডে়র নিকটে সিজুয়াতে প্রাপ্ত একটি জীবাশ্মীভুত মানুষের চোয়াল, যার বয়েস প্রত্নতাত্তিমক পদ্ধতিতে নির্ণিত হয়েছে দশহাজার বছর, যা প্রত্নপোলিও যুগের শেষ পর্ব; বাঙালীর নৃতাত্তিমক পরিচয়, অতুল সুর। অর্থাৎ উষালগ্ন থেকেই বাংলায় মানব সভ্যতার বিকাশের ধারা গডে় উঠেছিল। কিন্তু সেই মানবগোষ্ঠীর জাতি পরিচয় বা নসক্ত্সন্-চষ্hপ্ত্ক্ টগ্ঙ্প্ষ্ত্ষ্স্ কি ?
সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে, বেশিরভাগ পণ্ডিত মনে করেন যে প্রথমে নিগ্রোয়েড মহাজাতির প্রটোঅষ্ট্রালয়েড বা আদিঅস্ত্রাল নরগোষ্ঠীর প্রাধান্য ছিল ভারতীয় উপমহাদেশে। যদিও মূল ভূখেÀ বর্তমানে অবিমিশ্র আদিঅস্ত্রাল কোনো উপজাতির সন্ধান নেই কিন্তু দক্ষিণ সমুদ্র উপকূলের পার্বত্য অরণ্যে, কাদার-পুলায়াম, পূর্ব সীমান্তে অঙমী নাগা, বাংলার উত্তর-পশ্চিম সীমান্তে রাজমহল পাহাডে়র বাগ্দী এবং পশ্চিম রাঢে়র মাহালীদের মধ্যে কিয়ৎ পরিমানে আদিঅস্ত্রাল বৈশিষ্ট্য দেখা যায় তবে সবার মধ্যে নয় অল্প কয়েক জনের মধ্যে; এই বৈশিষ্ট্য কুঞ্চিত কেশ, মাথার খুলি মাঝারি থেকে লম্বাটে, প্রশস্ত নাসা, খর্বাকৃতি, কৃষ্ণবর্নে বিদ্ধৃত। কুঞ্চিত কেশের দুটি প্রকার, ছশ্ত্zzন্স্ সপ্গ্ ভব্ব্ন্স্ , মাহালীদের কারো কারো ছশ্ত্zzন্স্ hসত্শ্ বা তরঙায়িত কেশ দেখা যায় (দ:দ:)। অন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে ওঙি, জারওয়া প্রভৃতির মধ্যে খাঁটি প্রটোঅষ্ট্রালয়েড \ৃপটি বর্তমান। মূল ভূখণ্ড থেকে দ্বীপপুজ্ঞে অভিবাসনই সাধারণ নিয়ম, নৃতাত্তিমক থর ও কনরাড ভেলায় ভেসে তাহিতি থেকে বাহামা দ্বীপপুজ্ঞে অভিযান করে সেকথা সপ্রমাণ করেন। ঝুড়ি বোনার কারিগরি আদি অস্ত্রাল দের দান, মাহালিরা অদ্যাপি বাঁশের চঁ্যাচাড়ি দিয়ে ঝুড়ি বোনার কাজ করেন সম্ভবত ঝুড়ি-ঝোড়া-ধাউড়া শব্দ আদিঅস্ত্রাল ভাষা থেকে এসেছে, বোধ হয় বাঁটুল শব্দটিও এদের ভাষার শব্দ (দ: দ)। আদি অস্ত্রালরা ভারতীয় উপমহাদেশের আদিবাসী না বহিরাগত, তা নিয়ে বিতর্ক আছে। মোটের উপর এরাই ভারতের প্রথম স্থায়ী অধিবাসী।
এর পরে যাঁরা ভারতে আসেন তাঁরা অস্ত্রাল বা অষ্ট্রালয়েড, এরৃপ নামকরণের কারণ সর্বাপেক্ষা ক্ষুদ্র মহাদেশ অষ্টে্রলিয়াার আদিবাসীদের সঙে শুধু চেহারায় নয় রক্ত বিশ্লেষণেও মিল পাওয়া গেছে কিন্তু ভাষায় মিল নেই, তার কারণ হতে পারে এই যে, একই উৎস্য থেকে বিপরীতমুখী পরিযায়ন হয়েছিল, ভারতীয় উপমহাদেশে স্থায়ী হবার পর বিভ্ন্নি পর্যায়ের সাংকর্য, পরিবেশ বদল,তজ্জনিত খাদ্যাভ্যস বদলে যাওয়া, ঋতু পরিবর্তনের কাল বদলে যাওয়া, বিষয়কর্মের পরির্বতন, ইত্যাদি। এঁরা অবশ্য পরবর্তী জনপ্রবাহে ভেসে যাননি, যদিও পর্যায়ক্রমিক সাংকর্যের ফলে শারীর লক্ষণ, ধর্মীয় রীতি-নীতি, কিছুটা পরিবর্তীত হয়েছে কিন্তু মূল নৃতাত্তিমক বৈশিষ্ট্য বজায়, আছে; ধান-আখ-তুলার চাষ, বস্ত্র বয়ন, ঢেঁকিতে ধানভানার পদ্ধতি; তাঁদেরই দান, সম্ভবত কুমরের কাজ ও গাছের গুঁড়ি কুঁদে ডিঙি বানানোও। লাঙল, লাঙুল, পাঁচনবাড়ি, ডিঙি-ডোঙা, ঢেঁকি; এসব শব্দ অস্ত্রাল উপভাষা থেকে বাংলাভাষায় এসেছে এবং সংস্কৃত ভাষাতেও কিছু কিছু গৃহীত হয়েছে। সংখ্যা গণনার পদ্ধতি কুড়ির হিসেবে, চার কুড়িতে এক পন, দু পন, অল্প বয়েসের
৩
স্মৃতিতে এভাবে সজনে ডঁাটা গোনার প্রমাণ ধরা আাছে ১৯৬৪ সালে। সম্ভবত তেল মাপার একক বাংশের চোঙা, পলা এঁদেরই দান, দ; দ;। তেল-হলুদ-সিঁদুর। গুয়া যা থেকে সংস্কৃত গুবাক, বোধহয় প্রতিশব্দ সুপারিও অস্ত্রাল ভাষা থেকেই এসেছে; তাছাড়া আধার অর্থে বাটা-ডাবর (পানের বাটা) বাংলা ছড়ায় পানের বাটা শব্দের ভুরি প্রয়োগ পাওযা যায়। তাছাড়া বিয়ের আগে গায়েহলুদের অনুষ্ঠান, পান-সুপারি দিয়ে নিমন্ত্রণ করার প্রথা। ওঝা, ঝাড়-ফুঁক, বোঙা শব্দও অস্ত্রাল খেরওয়ারি / মুণ্ডারী ভাষা থেকে এসেছে।
বাংলায় বসবাসকারী অস্ত্রাল উপজাতিগুলি হল: মু্ণ্ডা, এঁদের বৃহত্তর অংশ ভূমিজ হিন্দু ভাবাপন্ন এবং বঙভাষী, গোলমু্ণ্ড, মাঝারি উচ্চতা, কৃষ্ণবর্ণ, খর্ব নাসা, এদের চালচলন এতোটাই বদলে গেছে যে আলাদা উপজাতি গণ্য হন, যদিও মুণ্ডাদের সঙে বৈবাহিক সম্বন্ধ বজায় আছে, ক্ষুদ্র অংশ এখনো মু্ণ্ডারী উপভাষায় কথা বলেন। সংখ্যার দিক থেকে ২য় বৃহত্তম। প্রথম সাঁওতাল, তবে আদিবাসীন্দা নন, সর্ব শেষ পরিযায়িত জন, মু্ণ্ডারী পরিবারের খেরওয়ারি উপভাষায় কথা বলেন, এদের অন্তর্বিবাহ প্রচলিত, পিতৃতান্ত্রিক পরিবার তবে কিছু কিছু আাচার অুনুষ্ঠানে মুণ্ডাদের সঙে মিল আছে, কৃষক-কৃষিমজুর। ৩য় সংখ্যাগরিষ্ঠ শবর, উপশাখা (শ্ঙ্ক্ষ্) লোধা, খেড়িয়া। একটি প্রাচীন জনজাতি, গোড়ায় যাযাবর, পরে গ্রামে থিতু হন, অরণ্যজীবী; এঁদের একটি শাখা কাঠুরিয়া, অরণ্য উৎসাদিত হওয়ায়, বর্তমানে কৃষি মজুর, আর একটি শাখা সাপুড়িয়া, সাপধরা, সাপ খেলানো, সাপের বিষ নামানো-ঝাড়ফুঁক, সাপের বিষ গালা-বিষ বেচা (কবিরাজি ব্যাবহার সূচিকাভরণ, বর্তমানে ওষুধ কোম্পানিগুলো বড় খরিদদার দ: দ:)। আর একটি শাখা বাঁদরকে পোষ মানিয়ে খেলা দেখাতো, বর্তমানে এই পেশায় সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে, বেশিরভাগ জনমজুর। বড় নদী সমুদ্র উপকূলে এদের পেশা মাছ ধরা, আলাদা শাখা গণ্য হয় না মৎস্যজীবী শবরদের ইষ্ট দেবতা মাকাল /মাহাঙ্কাল /আটমাকাল (দ;দ;)। বাংলায় এঁরা বঙভাষী, তবে খেরওয়ারি উপভাষা একেবারে লুপ্ত হয়নি, নিজেদের মধ্যে তার একটা বিকৃত রৃপ এখনো ব্যাবহার হয়।
দুর্গাপূজায় নবমী তিথিতে পূজা মণ্ডপে শাবর উৎসব উপলক্ষে্য বাংলার কোথাও কোথাও অশ্লীল বাক্য উচ্চারণ, অঙ-ভঙি করার রীতি আছে, সম্ভবত এটি বর্ষবরণ উৎসব, শরীর-মন অশুচী করে যমকে ফাঁকি দেবার তুক। শাবর উৎসব নাম কেন হল, শবরদের পালনীয় প্রথা কি দুর্গাপূজার মধ্যে ঢুকে পডে়ছে? দোল পূর্ণিমার দিন কাদা-পাঁক মাখা, অঙভঙি সহ অশ্লীল বাক্য, অনুরৃপ তুক, সেটা পরে রঙ-আবীর মাখায় দঁাড়িয়েছে। দশমীতে এয়োদের সিঁদুর খেলাও এক ধরনের তুক বৈধব্যের জড় মেরে রাখা। দুর্গাপুজার সঙে এসব কেমন করে জড়ালো; ‘দুর্গা অংশত বহিরাগতঽ তারই ইঙিত কি এই সব প্রথা? এই সব জাত-বেজাতের কথা, তারই উপক্রমণিকা, সে কাজটা আগে করা চাই। দুর্গাপুরাণের কথা শুন পুণ্যবান !
সাঁওতালদের পাছ ধরে এসে ছিল কোড়া জন গোষ্ঠী, কুঁয়া খোঁড়ায় দক্ষ-কৃষিমজুর, খেরওয়ারি উপভাষায় কথা বলে। চতুর্থ বৃহত্তম জনগোষ্ঠী, কুর্মী, সাঁওতালদের আগে পরিযায়িত, গরীষ্ঠ অংশ বঙভাষী, মাহাতো
৪
নামে পরিচিত, উপজাতিক পরিচয় দেন না, লঘিষ্ট অংশ খেরওয়ারি উপভাষা কুড়মালী বলেন, সম্প্রতি ও বি সি হবার আন্দোলন করছেন। মাহাতোদের বেশিরভাগ জমি-জিরেতের অধিকারী, প্রায় সকলেই সাক্ষর, অনেকেই উচ্চশিক্ষিত, স্বাধীনতা সংগ্রামে বৃহৎ সংখ্যায় অংশ নিয়েছিলেন।
ওঁরাও রা মুণ্ডাদর চেয়ে সংখ্যাগরীষ্ঠ, জবান দ্রবিড় উপভাষা কুরুখ, এদের শিকারে সাফল্যদাত্রী দেবী চাণ্ডি তন্ত্র ও ব্রাহ্মণ্যতন্তে্রর দেবী ‘চণ্ডীঽ হয়ে দুর্গার রৃপভেদ গণ্য হয়েছেন। পরিযায়ন হয়েছে পশ্চিম রাঢে় (পশ্চিম মেদিনীপুর), সুন্দরবনে (দক্ষিণ ২৪পরগণা), বাংলায় পুরোপুরি বঙভাষী, কুরুখের ব্যবহার নেই. অনুরৃপ গোন্দ /গোণ্ড, এঁদের মারিবসন্তে দেবতা জুগাদেনু ( ঢেঁঢে়,বর্দ্ধমান জেলা), দেবী সোনামুখী, খড়্গপুর থানা, জেলা পশ্চিম মেদিনীপুর; এদের ভাষায় কুই শব্দের অর্থ দেবতা ও দেবস্থান, দুই বোঝায়, পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রাম জেলায় ঐনামের এবং উপা্ন্ত নাম সহ গ্রাম আছে, গোন্দ ভাষার ব্যাবহার নেই। মেদ জাতিও সম্ভবত অষ্টে্রা-দ্রবিড়, এঁদের আাবাস ‘মেদনিঽ ছড়িয়ে আছে ছত্তিশ গডে়র পালামেৌ, মদিনীপুর, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া,পশ্চিম দিনাজপুর, বাংলাদেশের বিক্রমপুর, এই বিস্তীর্ণ অঞ্চলে, যদিও বর্তমানে মেদজনকে আলাদা ভাবে চিহ্নিত করা যায় না, ভাষা লোপ পেয়েছে। মেদ জাতির উল্লেখ আছে মির্জাপুরে প্রাপ্ত পাল বংশীয় সম্রাট ১ম শূরপালের ৯ম শতকের একটি তাম্রশাসনে, মেদান্ধ্রচণ্ডাল পর্যন্ত সকল প্রজার রাজাজ্ঞা অবশ্য পালনীয় বলা হয়েছে; শিলালেখ-তাম্রশাসনাদি প্রসঙ, দীনেশচন্দ্র সরকার। পরবর্তী কালে দ্বাদশ শতকের বাঙালী স্মৃতিকার ভবদেব ভµও মেদ জাতিকে অন্ত্যজ বলে উল্লেখ করেছেন। সুতরাং দ্বাদশ শতক পর্যন্ত মেদ জাতির অস্তিত্তেমর উল্লেখ পাচ্ছি, ৯টি স্থান নামে যার অস্তিত্তেমর সাক্ষ্য বর্তমান, বঙীয় সমৃদ্ধ কৃষ্টি গঠনে সে জাতির কিছু অবদান থাকা সম্ভব, সেটা কি এবং তাঁরা অষ্টে্রা-দ্রবিড়, এই অনুমানের ভিত্তি কি? ভিত্তি এক পংতিতে সমাসবদ্ধ উল্লেখ। অন্ধ্র জন হস্তিপক, অন্ধ্রবাসীদের সঙে তাদের আত্মীয়তা নিয়ে কোনো অনুসন্ধান নাহলেও, অন্ধ্রবাসীরা যে দ্রবিড়জন, তা সুবিদিত, সুতরাং বাংলার অন্ধ্রজন সাংকর্যের ফলে অষ্টে্রা-দ্রবিড়, হওয়াই সম্ভব। এক সময় ছোটো নাগপুর মালভূমিতে; চের, চুটিয়া, নাগেশিয় প্রভৃতি দ্রবিড় উপজাতির বাস ছিল, তাদের পরিযায়ন হয়েছিল দক্ষিণে ও পূবে, অর্থাৎ বঙে ও মধ্যভারত হয়ে দক্ষিণ ভারতে। পুর্ব মেদিনীপুর জেলার ভগবানপুর থানায় পূর্ব মাসুড়িয়া গ্রামে, নগেশিয়দের বসত আছে। দাক্ষিণাত্যে বিভিন্ন দ্রবিড় ভাষাভাষী জনের সংহত আবাস। চণ্ডাল এবং তাঁদের শাখা ডোম যে অষ্টে্রা-দ্রবিড়, তা মোটামুটি নির্ণিত, সে সাযুয্যে মেদও অষ্টে্রা-দ্রবিড় জন, এই অননুমান সঙত। এই তিন জনজাতির অবশ্যই কিছু না কিছু ভূমিকা আছে বঙীয় কৃষ্টি গঠনে: ডোম ছিল এক সময় বাংলার প্রধান ক্ষাত্রশক্তি, বাংলা ছড়ায়, ধঢ়র্মঙল-শূন্যপুরাণে তার উল্লেখ পাই। ঢাক হল রণবাদ্য, ডোমেরাই তার প্রধান বাদক সম্প্রদায়, দুর্গা পূজার ম্ডপেও তাঁদের ঢাক বাজাতে দেখা যায়। অন্ধ্র জন ছিল হস্তিপক, বঙীয় সেনাবাহিনীতে রণহস্তির যোগানদার। সংস্কৃত পুর শব্দ এসেছে, দ্রবিড় উর শব্দ থেকে, মেদজনজাতি কি নগরস্থাপত্যের কারিগর ছিলেন? অসম্ভব না, পালামেৌ জেলা সদরের নাম
৫
মেদিনীনগর। অন্ত্যজ ধর্তব্য নয়, ডোমও তো অন্ত্যজ, সামন্ততন্তে্র কারিগর-শিল্পী তো দক্ষ সেবাদাস মাত্র।
যাইহোক অদিঅস্ত্রাল, অস্ত্রালদের পরে দ্রবিড়জন; এই তিনজনের কাজ-কর্মের মধ্যে দিয়ে গডে় উঠেছে বাঙালী জাতিসত্তমা ও বঙীয় কৃষ্টি, এই বঙীয় জনই অজয় উপত্যকার সভ্যতার স্রষ্টা।
তা এর মধ্যে অসুরদলনী দুর্গা কোথায়? আছে, আছে, জলপথে তাঁকে পাওয়া যাবে না, তিনি এসেছেন স্থলপথে পাহাড়-পর্বত ডিঙিয়ে, অসুরদের দেশ থেকে। তবে যে পাঁজিতে লখে দোলায় আগমন নেৌকায় গমন অথবা গজে আগমন, ঘোটকে গমন; সে তো কলেকর ধোঁয়া আর বোতলের বুদবুদ, ধৈর্য ধরতে হবে; রেললাইন পাতা হচ্ছে তৈরি হচ্ছে ব্যাটারি চার্জিং ষ্টেশন, তখন লেখা হবে ট্রেনে আগমন মোটরে গমন। কোনো পাঁজি লিখবে ইলেকট্রিক ট্রেন, কেউ লিখবে ডিজেল, মোটরের মেকদারিতেও ভিন্নতা থাকবে, সবাই বলবে, আমারটাই ঠিক, লটারি করে ঠিক হবে কোন টিকিটে কোটি টাকার দান লাগতে পারে।
ইয়া দেবী লটারি রৃপেন সংস্থিতা
নমস্তস্যই নমস্তস্যই নম: নম:
শৃন্বেন্তু পুণবান:
ইতি দ্বিতীয় অধা্যায় সমাপ্ত,
উবাচ দীপঙ্কর দাস দাসস্য।
নবমী তিথি গতা, সন ৫ কার্তিক, সন ১৪৩০
